সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০১:১৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
গোয়াইনঘাটে ইউআরসির ৩লক্ষ ৯৪হাজার টাকা আত্মসাৎ’র পায়তারা..! সমালোচনার ঝড় অস্তিত্ব সংকটে গোয়াইনঘাট ছাত্রলীগ! অনুপ্রবেশকারী ও বিবাহিতদের দখলে ৩ নং পূর্ব জাফলং ছাত্রলীগ : ত্যাগী কর্মীরা পদ বঞ্চিত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করলেন জাফলংয়ের সুমন ডৌবাড়ী ইউনিয়ন প্রবাসী কল্যাণ ট্রাস্টের কমিটি গঠন”সভাপতি এনামুল’সম্পাদক আরিফ গোয়াইনঘাট ভূয়া সাংবাদিক তানজিল র প্রতারনা অনিশ্চিত দিন যাপন #মেহেরুন নেছা সুমি ডৌবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয় সীমানা প্রাচীর নিয়ে দ্বন্ধের নিষ্পত্তি নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে সমাহিত মুফতি আব্দুর রহমান ক্বাসীমির লাশ”শোকে কাতর গোয়াইনঘাট মুফতি আব্দুর রহমান ক্বাসীমির ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলে শোক পাথররাজ্য পরিদর্শনে মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো: কামাল হোসেন পানি পানের উপকারিতা” ডা.লোকমান হেকিম। লেঙ্গুড়া ইউপি নির্বাচনে নতুন চমক যুবনেতা আব্দুল মন্নান দুজনই সব বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন এইচএসসি না অটো পাশ- সুমাইয়া আক্তার চলে যাওয়া মেহেরুন নেছা সুমি দয়ামীর ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী সাঈদ আহমদ বর্ষাতে তোমাকে দেখি #মেহেরুন নেছা সুম পদ্ম দিঘি -মেহেরুন নেছা সুমি গোয়াইনঘাটে যুবকের উপর দুর্বৃত্তের হামলা” থানায় অভিযোগ দায়ের গোয়াইনঘাট প্রবাসী টাস্ট র কমিটি গঠন”সভাপতি বিলাল সম্পাদক লুৎফুর স্হানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতিকে হবে- সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম Ntv ইউরোপের গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি র নিয়োগ পেলেন কে,এ,রাহাত সকাল….. মেহেরুন নেছা সুমি গোয়াইনঘাটে একাধিক মামলার পলাতক আসামী জহির পুলিশের হাতে আটক জৈন্তিয়া ১৭ পরগনা সালিশ সমন্বয় কমিটির সাথে ইমা-লেগুনা মালিক সমিতির মতবিনিময় সভা গোয়াইনঘাট অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক নাসির উদ্দিনের মৃত্যু”বিভিন্ন মহলের শোক ডায়াবেটিস থেকে দাঁতের রোগ ফলমূল চাষ করে স্বাবলম্বী শারীরিক প্রতিবন্ধী গোয়াইনঘাট র দিদারুল আলম
ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ

রিয়াজুল ইসলামঃ
পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাজিলের মাস পবিত্র রমজান শরীফের আজ ১৭ তারিখ। পবিত্র রমজানের এই দিনটি অনেক সাফল্যমণ্ডিত। আজ ঐতিহাসিক বদর দিবস। ২য় হিজরির ১৭ রমজান সৌদিআরব এর মদিনা শরীফ হতে ৭০ মাইল দূরে বদরের প্রান্তে সংঘটিত হয়েছিল মুসলমান এবং কাফেরদের মধ্যে সশস্ত্র লড়াই।

তাতে তৎকালীন সময়ে সবার ধারণা পাল্টে দিয়ে প্রায় অস্ত্রহীন মুষ্টিমেয় মুসলমানদের জয়ী করেন মহান আল্লাহ। ইতিহাসে সংযোজিত হয় নতুন একটি অধ্যায়। তা শুধু মুসলমানদের ইতিহাস নয়, এটি ছিলো বিশ্বসভ্যতার এক সোনালী ইতিহাস।

বিশ্বমানবতার মুক্তি দিতে ও কল্যাণের শাশ্বত বাণী শোনাতে এবং দিশেহারা বনি আদমকে সত্য সুন্দর পথের সন্ধান দিতে আরবের মাঠি মক্কা নগরীতে আগমণ করেছিলেন আল্লাহর হাবিব শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ)। কিন্তু তার প্রচারিত ইসলামের শাস্বত বাণী মক্কায় ১৩ বছর ধরে তেমন ফলপ্রসু হয়নি স্থানীয় কুরাইশ বংশের লোকের বিরোধিতার কারণে।

এ দিকে বায়তুল্লাহ শরীফে জিয়ারতে আসা আউস এবং খাজরাজ এর লোকেরা মোহাম্মদ (সঃ) এর দাওয়াতের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হোন। তারা মোহাম্মদ (সঃ) কে তার নিজ জন্মভূমি মক্কাতে নির্যাতিত নবী (সঃ) ও তার সাথীদের আহ্বান জানান নিজেদের জনপদে। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আল্লাহর হুকুমে সাহাবারা সেখানে হিজরত করতে থাকেন। আল্লাহর রাসুল (সঃ) ও এক সময় তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সাথী হজরত আবু বকর (রাঃ) কে নিয়ে তার জন্মভূমি ছেড়ে হিজরত করলেন।

নবী (সঃ) এর আগমনে ইয়াসরিবের নাম পরিবর্তন হয়ে মদিনাতুন নবী বা সংক্ষেপে মদিনা নামকরণ হয়ে যায় । নতুন এই যায়গা মদীনা আস্তে আস্তে হয়ে উঠল ইসলাম প্রচার ও মুসলমানদের জন্য নিরাপদ যায়গা । ইসলাম গ্রহণকারী আওস-খাজরাজ বংশের সাথে বনু কায়নুকা, বনু নজির, বনু কুরায়জা’সহ ইহুদি গোষ্ঠির শান্তিতে সমান অবস্থান নিশ্চিত করতে রচিত হয় মদিনা সনদ নামে পরিচিত বিশ্বের সর্বপ্রথম লিখিত সন্ধি।

কিন্তু মক্কার কুরাইশ বংশের লোকেরা মুসলমানদের শান্তি চায়নি। তারা নানা রকম ষড়যন্ত্র করতে থাকে। ছোটখাটো সংঘাত ও চালাতে থাকে। এত দিন আল্লাহর পক্ষ হতে মুসলমানদের ধৈর্য ধরার আদেশ করা হয়েছিল। কিন্তুু এইবার অস্ত্রসহ যোদ্ধের অনুমতি নিয়ে অবতির্ণ হলো কুরআনের কয়েকটি আয়াত।

যেমন সূরা হাজ্বের ৩৭ নম্বর আয়াত- যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো হচ্ছে, তাদেরকে (যুদ্ধের) অনুমতি দেয়া হলো এ জন্য যে, তারা নির্যাতিত হয়েছে। আর আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে সক্ষম। তাদেরকে নিজেদের বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল অন্যায়ভাবে শুধু এ কারণে যে, তারা বলে আমাদের প্রভু আল্লাহ।

এভাবে অস্ত্রসহ অমুসলিমদের রুখে দেয়ার অনুমতি আসার পর নবী (সঃ) তৈরী হলেন। কুরাইশ গোত্রের কাফেরদের সাথে নবী ও তার ছাহাবাদের ছোটখাটো কিছু সংঘর্ষের পর প্রথম সরাসরি অস্ত্রসহ মোকাবেলা হয় মদিনা হতে বেশ কিছু দূরে বদর নামক প্রান্তরে। কিন্তু দুই গ্রুপ কোনো দিক দিয়েই সমান ছিল না।

নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর সাথে ছিলেন মাত্র ৩১৩ জন সাহাবী। তারা প্রায় অস্ত্রবিহীন। আর অন্য দিকে আবু জেহেলের সাথে রয়েছে এক হাজার প্রশিক্ষিত কাফের।
যুদ্ধ শুরুর আগে নবী (সঃ) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, হে আল্লাহ, তুমি যদি চাও পৃথিবীতে তোমার গোলামী করার কেউ না থাকুক, তাহলে এই ছোট্র কাফেলাটিকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হতে দাও। আল্লাহ তায়ালা তা চান নি। তাই প্রায় অস্ত্রহীন অল্প কয়জন মুসলিম মুজাহিদের কাছে পরাজিত হয় আবুজেহেলের বিশাল বাহিনী।

আবুজেহেল বাহিনীর ৭০ জন কাফের নিহত হয়। আটক হয় আরো ৭০ জন কাফের। আর মুসলমানদের মধ্য থেকে শহীদ হন মাত্র ১৪ জন ছাহাবী। যুদ্ধের এমন ফলাফল ছিল সম্পূর্ণ অভাবনীয়, কিন্তু সেটা ছিল মহান আল্লাহর কুদরতের নমুনা। তিনি ছোট্র একটি কাফেলাকে বড় একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়ী করে প্রমাণ করে দিলেন কাফেরদের প্রকৃত দুর্বলতা ও অসহায়ত্ব। এজন্যই বদরের যুদ্ধ মুসলমানদের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিহাদ। এই যুদ্ধে বন্দী কাফেরদের সাথে নবী (সঃ) ও ছাহাবারা যে সুন্দর আচরণ করেছিলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবীহিন। মুক্তিপণ আদায়ে যারা অক্ষম ছিলেন তাদের ওপর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল ১০ জন মুসলিম শিশুকে লেখাপড়া শেখানোর । শিক্ষার প্রতি ইসলামে কত গুরুত্ব রয়েছে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এই ঘটনা। পৃথিবীর সকল ধর্মাবলম্বী মানুষের জন্য রয়েছে এতে ব্যাপক শিক্ষা। বিশ্বসভ্যতার মোড় ঘুরে যায় এ ঘটনা থেকে।

বদরের প্রান্তরে যেমন মক্কার কাফেরদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের জয় হয়েছিলো, তেমনি একই সময়ে সমকালীন বিশ্বের দুই পরাশক্তি পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে জয়ী হয়েছিল রোমান শক্তি। পারস্য শক্তির বিরুদ্ধে রোমান খ্রিষ্টান শক্তির বিজয়ের সংবাদও ছিল মুসলমানদের জন্য উৎসাহের বিষয়।

পৌত্তলিকতাসহ বিভিন্ন খারাপ সাংস্কৃতি মানবজাতিকে সৃষ্টির সেরা জীব উন্নত এই মর্যাদা থেকে নামিয়ে এনেছিল সবচেয়ে নিচু স্তরে। ইসলাম মানবজাতিকে আবার সেই উন্নত যায়গায় নেয়ার ঘোষণা দেয়। বদরের প্রান্তর থেকে ইসলামের বিজয় সূচিত হয়। তাই প্রত্যেকটি বছরের ১৭ই রমজান গোটা মুসলমান জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় ইসলামের গৌরবময় বিজয়ের সেই ইতিহাস, নতুনভাবে অন্তরে সাহস জাগায় আল্লাহর ক্ষমতার সামনে নিজের সব কামনা বিলীন করে দেয়ার।





© All rights reserved © 2019 Gowainghatprotidin
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ