বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৯:০৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
গোয়াইনঘাটে ইউআরসির ৩লক্ষ ৯৪হাজার টাকা আত্মসাৎ’র পায়তারা..! সমালোচনার ঝড় অস্তিত্ব সংকটে গোয়াইনঘাট ছাত্রলীগ! অনুপ্রবেশকারী ও বিবাহিতদের দখলে ৩ নং পূর্ব জাফলং ছাত্রলীগ : ত্যাগী কর্মীরা পদ বঞ্চিত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করলেন জাফলংয়ের সুমন ডৌবাড়ী ইউনিয়ন প্রবাসী কল্যাণ ট্রাস্টের কমিটি গঠন”সভাপতি এনামুল’সম্পাদক আরিফ গোয়াইনঘাট ভূয়া সাংবাদিক তানজিল র প্রতারনা অনিশ্চিত দিন যাপন #মেহেরুন নেছা সুমি ডৌবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয় সীমানা প্রাচীর নিয়ে দ্বন্ধের নিষ্পত্তি নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে সমাহিত মুফতি আব্দুর রহমান ক্বাসীমির লাশ”শোকে কাতর গোয়াইনঘাট মুফতি আব্দুর রহমান ক্বাসীমির ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলে শোক পাথররাজ্য পরিদর্শনে মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো: কামাল হোসেন পানি পানের উপকারিতা” ডা.লোকমান হেকিম। লেঙ্গুড়া ইউপি নির্বাচনে নতুন চমক যুবনেতা আব্দুল মন্নান দুজনই সব বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন এইচএসসি না অটো পাশ- সুমাইয়া আক্তার চলে যাওয়া মেহেরুন নেছা সুমি দয়ামীর ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী সাঈদ আহমদ বর্ষাতে তোমাকে দেখি #মেহেরুন নেছা সুম পদ্ম দিঘি -মেহেরুন নেছা সুমি গোয়াইনঘাটে যুবকের উপর দুর্বৃত্তের হামলা” থানায় অভিযোগ দায়ের গোয়াইনঘাট প্রবাসী টাস্ট র কমিটি গঠন”সভাপতি বিলাল সম্পাদক লুৎফুর স্হানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতিকে হবে- সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম Ntv ইউরোপের গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি র নিয়োগ পেলেন কে,এ,রাহাত সকাল….. মেহেরুন নেছা সুমি গোয়াইনঘাটে একাধিক মামলার পলাতক আসামী জহির পুলিশের হাতে আটক জৈন্তিয়া ১৭ পরগনা সালিশ সমন্বয় কমিটির সাথে ইমা-লেগুনা মালিক সমিতির মতবিনিময় সভা গোয়াইনঘাট অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক নাসির উদ্দিনের মৃত্যু”বিভিন্ন মহলের শোক ডায়াবেটিস থেকে দাঁতের রোগ ফলমূল চাষ করে স্বাবলম্বী শারীরিক প্রতিবন্ধী গোয়াইনঘাট র দিদারুল আলম
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠযোদ্ধা, মাজাহারুল ইসলাম র সাথে সাংবাদিক কে,এ,রাহাত

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠযোদ্ধা, মাজাহারুল ইসলাম র সাথে সাংবাদিক কে,এ,রাহাত

——-মাজাহারুল ইসলাম এর সাথে দেখা হয়েছিল ঢাকায় একটি প্রোগ্রামে।
তার মুখটা চিনতে না পারলেও কণ্ঠটা শুনলে যে কেউ ফিরে তাকাবেন। কারণ, কণ্ঠটা যে এ দেশের মানুষের খুব চেনা, খুব প্রিয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দযোদ্ধা, বেতার ব্যক্তিত্ব, সর্বাধিক চলচ্চিত্র বিজ্ঞাপনের উপস্থাপক, বেতার নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেতা। মঞ্চ ও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন বহুবার। প্রায় অর্ধশতাব্দী সময় ধরে বাংলাদেশ বেতারের বিভিন্ন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে আসছেন। এ দেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বহু সোনালি মুহূর্তকে দেখেছেন খুব কাছে থেকে। সেসব মুহূর্তকে সংরক্ষণ করতেই গড়ে তুলেছেন ‘সেতু রেকর্ডিং স্টুডিও’। এটি কেবল রেকর্ডিং স্টুডিও নয়। একটি অডিও-ভিডিও আর্কাইভ। পাওয়া যাবে ইতিহাসের স্বর্ণালি সব মুহূর্ত। এখানে এলে স্মৃতিকাতর হবেন যে কেউ।
রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত এই সংগ্রহশালা আকারে খুব বড় না হলেও এখানে ঠাঁই মিলেছে আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া অনেক দুর্লভ সময়ের। প্রবেশপথের দু’পাশের দেয়ালে ঝোলানো আছে অনেক দুর্লভ আলোকচিত্র। বাংলা চলচ্চিত্র এবং সঙ্গীতের অনেক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বের নানা সময়ের সেসব আলোকচিত্র আমাদের যেন ইতিহাসের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। জানতে চাইলে মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার অনেক দিনের একটু একটু করে গড়ে তোলা এ সংগ্রহশালা। আমার স্ত্রী (প্রয়াত) হোসনে আরা ইসলামকে কত দিন ফাঁকি দিয়েছি! হয়তো সংসারের দরকারি কিছু আনতে বললেন আমাকে। আমি সেটা না এনে এ সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছি। বউকে বাসায় গিয়ে অপরাধীর মতো মুখ করে বলেছি, ভুলে গেছি। সদ্য প্রয়াত নায়করাজ রাজ্জাকের ছবিটা দেখুন। চোখে জল উঁকি মারছে। কত কথা সেদিন বললেন আমাকে! কী দুঃসহ জীবন সংগ্রাম করেছেন টিকে থাকতে! একসময় সফলও হলেন। কোনো শ্রমই আসলে বৃথা যায় না। হয়তো একটু সময় লাগে।’

আমি শুনতে শুনতে মুগ্ধ হই। দেয়ালে ঝোলানো আলোকচিত্রগুলো একের পর এক দেখতে থাকি। প্রয়াত নায়ক জাফর ইকবালের সঙ্গে মাজহারুল ইসলামের একটি বিশেষ মুহূর্তের ছবি দেখে দাঁড়িয়ে পড়ি। তেমনি থমকে দাঁড়াই অকালপ্রয়াত আরেক অভিনেতা জসীমের সঙ্গে আরেকটি আলোকচিত্র দেখে। মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দেখা সবচেয়ে পরিশ্রমী অভিনেতাদের একজন জসীম। ছোটখাটো ভূমিকায় অভিনয় করতে করতে একসময় পর্দায় এলেন। ভিলেনের অভিনয় করতেন। সেখান থেকে তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক হয়ে উঠলেন। তার মনটা অনেক নরম ছিল। মানুষের দুঃখ-কষ্ট খুব স্পর্শ করত।’
আরেক প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার সঙ্গে একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি দেখিয়ে বললেন, ‘মান্নার শেষ ইন্টারভিউটা আমি করেছিলাম মৃত্যুর কয়েক দিন আগে। অনুষ্ঠান শেষে তার ভক্ত-দর্শকদের উদ্দেশে কিছু বলতে বলেছিলাম তাকে। মান্না কিছুই বলেননি। কেবল হাতজোড় করে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গি করলেন। কেন করলেন, বুঝতে পারলাম না। মানুষ মৃত্যুর আগে সম্ভবত বুঝতে পারে, তার সময় শেষ হয়ে এসেছে।’

দেয়ালের এক পাশে কাঠের তাকে সাজানো হাজার হাজার বাংলা ছায়াছবির গান। একেকটি বাংলা সিনেমার নাম পড়ি আর আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে শৈশব-কৈশোরের একেকটি দিন। বাংলাদেশ বেতারে এসব চলচ্চিত্রের বিজ্ঞাপন প্রচার হতো তখন মাজহারুল ইসলামের মোহনীয় কণ্ঠে। মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সেতু রেকর্ডিং স্টুডিও (অডিও, ভিডিও) শুধু রেকর্ডিং স্টুডিও নয়। এটি একটি অডিও-ভিডিও আর্কাইভ। এখানে সংরক্ষিত আছে সেই ‘মুখ ও মুখোশ’ থেকে আজ অবধি প্রায় ৩০ হাজার ছায়াছবির গান। নায়করাজ রাজ্জাক, শাবানা, জসীম, মান্না, বুলবুল আহমেদ, সুচন্দা, চম্পা, দিতি, ইলিয়াস কাঞ্চনসহ সেকাল ও একালের বহু তারকা অভিনয় শিল্পীসহ চলচ্চিত্র কলা-কুশলী এবং কণ্ঠশিল্পী আবদুল আলীম, মো. আবদুল জব্বার, এন্ড্রু কিশোরসহ অনেকের সাক্ষাৎকার নিজে গ্রহণ করেছি। আমার এই সংগ্রহশালায় সেসব যত্ন করে রেখেছি।

আরেকটি আলোকচিত্রের সামনে দাঁড়িয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন মাজহারুল ইসলাম। কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে বললেন, ‘আমার শিল্পী-জীবনের উল্লেখযোগ্য স্মরণীয় ঘটনা হলো, স্বাধীনতার পর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্রে যোগদানের পর আমার উপস্থাপনায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ নিয়ে রেকর্ডকৃত অনুষ্ঠান ‘বজ্রকণ্ঠ’ প্রতিদিন প্রচারিত হতো। ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার জাতীয় খবরের পর পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতার ঢাকা থেকে জাতীয় অনুষ্ঠান হিসেবে প্রচারিত হয়েছে ‘বজ্রকণ্ঠ’। এই ছবিতে যাকে দেখছেন তিনি আশফাকুর রহমান খান। অতি সম্প্রতি ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ ঘোষণা করেছে। এই মহাসংবাদটির গৌরব ধারণ করে সেই সময়ের কনিষ্ঠ শিল্পী হিসেবে আমি মাজহারুল ইসলাম একজন শব্দযোদ্ধা আজ বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলছি- তৎকালীন পাকিস্তান সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও শাহবাগ বেতারের অকুতোভয় স্বাধীনতাকামী কর্মী দল তাৎক্ষণিক বঙ্গবন্ধুর ভাষণ মঞ্চের নিচ থেকে সঠিকভাবে রেকর্ডিং চালিয়ে গিয়েছিলেন। ডিএফপির দুঃসাহসিক ক্যামেরাম্যান এমএ মোবিন এবং কর্মকর্তা আবুল খায়েরসহ তার সঙ্গীরা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের যে ছবি তুলেছিলেন এবং গোপনে এফডিসিতে প্রিন্ট করিয়েছিলেন; তাদের প্রতি জাতির সম্মান প্রদর্শন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এটাই সর্বশেষ সময়। কারণ সেসব বেতার কর্মীর মধ্যে আশফাকুর রহমান খান, আশরাফুল আলমসহ মাত্র দু’চারজন বেঁচে আছেন। তাই বর্তমান সরকার ও সরকারপ্রধানের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ থাকবে, বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সংগ্রহে যারা দুঃসাহসিক ভূমিকা পালন করেছেন; জীবিত অথবা মৃত, তাদের সঠিক তথ্য অনুযায়ী সন্ধান করে তাদের সম্মানিত করা আমাদের একান্ত দায়িত্ব। আরেকটি প্রার্থনা, বঙ্গবন্ধুর বিশ্বসেরা ভাষণটি যে কন্ট্রোল রুম থেকে ও যে মেশিনে বাজানো হয়েছিল এবং শাহবাগ বেতারের যে স্টুডিও থেকে বঙ্গবন্ধু সরাসরি ভাষণ দিয়েছেন সেই স্টুডিওটি বঙ্গবন্ধু আর্কাইভ হিসেবে সংরক্ষণ করলে আজ ও আগামী প্রজন্মের জন্য বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ঐতিহাসিক গৌরব রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আমরা শাহবাগ বেতার কর্মীরা মনে করি।

ছবি : সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম





© All rights reserved © 2019 Gowainghatprotidin
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ