‘গরুবারি’ মানে পালাক্রমে মাঠে গরু চরানোর কাজ। গৃহস্থ ঘরের কামলারা (গৃহকর্মী) পালাক্রমে এ দায়িত্ব পালন করতেন। যিনি এ দায়িত্ব পালন করতে তাকে বলা হতো গরু বারিদার। পুরো গ্রামের গরুগুলোর দায়িত্ব থাকত তার কাঁধে। মাঠে চরিয়ে ঘাস খাওয়ানোর দয়িত্ব পালন শেষে আবার বিকেল হলে তিনি মালিকদের কাছে সমঝিয়ে দিতেন গরুগুলো।
এক সময় গ্রামের প্রত্যেক গৃহস্থের বাড়িতেই গরু ছিল। হাল চাষ কিংবা বেশি মুনাফার আশায় গ্রামের কৃষকরা লালন পালন করতেন গরু। অনেকে আবার অন্যেও গরুও লালন পালন করতেন। গরুগুলো মাঠে চরানোর জন্য আলাদা লোক না থাকায় গৃহস্থদের কামলারা পালাক্রমে গরু চরানোর দায়িত্ব পালন করতেন।
‘গরুবারি’র দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়,  প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট স্থানে গ্রামের সবগুলো গরু একত্রিত করে মাঠে চরিয়ে ঘাস খাওয়াতেন তারা। গ্রামের গৃহস্থরা মিলে তাদের এ দায়িত্ব দিতেন। শুষ্ক মৌসুমে প্রতিদিন গ্রামের ঘর বা বাড়িভিত্তিক পালাক্রমে একজনের দায়িত্বে গ্রামের গৃহস্থদের ছোট বড় হালের বলদ, দুধের গাভি, বাছুরসহ কয়েক শতাধিক গরু একত্রিত করে এক সাথে খোলা আকাশের নিচে মাঠে চরাতেন তারা। নিয়ম অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে গ্রামের এক প্রান্ত  থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সবাইকে এ দায়িত্ব পালন করতে হত। সকালবেলা গ্রামের গৃহস্থ গোয়ালঘরের দরজা খুলে গরুগুলো সমজিয়ে দিতেন গরু বারিদারের কাছে। আবার ঠিক সন্ধ্যা হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে গরুগুলোকে নিজ দায়িত্বে বারিদারের কাছ থেকে নিয়ে এসে ঘরে তুলতেন।